সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ সাকলাইন
অনলাইন ডেস্ক
ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই উত্তেজনা আর রাজনীতির ছায়া। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে সাম্প্রতিক বয়কট বিতর্কে সেই উত্তাপ আরও বেড়েছে। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। সরাসরি নাম না নিলেও ভারতকে একটু সাধারণ বুদ্ধি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এর প্রভাব ক্রিকেটেও স্পষ্ট। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে দুই দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য চলছেই।
সাধারণত এসব বিতর্কে যিনি মুখ খোলেন না, সেই সাকলাইন এবার কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাবেক এক ভারতীয় ক্রিকেটারের বক্তব্য তাকে হতাশ করেছে। একজন সাবেক খেলোয়াড় হয়ে রাজনীতিবিদের মতো কথা বলা মানানসই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাকলাইনের ভাষায়, ক্রিকেটাররা সমাজের কাছে নায়ক হিসেবে বিবেচিত হন। তাই তাদের আচরণ ও বক্তব্য আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল। পরে আইসিসি, পিসিবি, বিসিবির আলোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পাকিস্তান। ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত ভারত পাকিস্তান ম্যাচ।
এই প্রসঙ্গে সাকলাইন বলেন, ক্রিকেট এমন একটি খেলা যেখানে মাঠে ভালো খেললে দুই দেশের দর্শকরাই প্রশংসা করে। অথচ কিছু সাবেক ক্রিকেটার সেই বিষয়টি উপেক্ষা করে বিভাজনমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তার মতে, রাজনীতি রাজনীতিবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
ভারতের কয়েকজন সাবেক তারকার সমালোচনামূলক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব বক্তব্য খেলাটির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ক্রিকেট শান্তি, ঐক্য ও বন্ধুত্বের প্রতীক বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি স্মরণ করেন একটি প্রদর্শনী ম্যাচের কথা, যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের সমর্থকেরা দুই দেশের পতাকা জোড়া দিয়ে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সাকলাইন বলেন, ভারত পাকিস্তান ক্রিকেটে আগের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ হয়তো আর ফিরে আসবে না। তার দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই বৈরিতা বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু পক্ষ অহেতুক নিজেদের আর্থিক অবদান নিয়ে অহংকার করে কথা বলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
