সুবর্ণচরে আসামি ছাড়তে ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আসামিকে ছাড়িয়ে দেওয়া এবং মামলার ধরন পরিবর্তনের কথা বলে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ও উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে আটক যুবক সিদ্দিককে ছাড়িয়ে নিতে তাঁর ছোট ভাই ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি থানায় যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের স্বজনেরা বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় এসআই জসিম উদ্দিন মামলাটি সাধারণ ধারায় দেওয়ার কথা বলে দুই পক্ষের কাছে মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকার একটি অংশ পুলিশ সুপার, একটি অংশ ওসি এবং বাকি অংশ নিজের জন্য নির্ধারিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে দুই পক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও ৪০ হাজার টাকার কমে হবে না বলে জানানো হয়। টাকা না দিলে মামলাটি গুরুতর করা হবে এবং জামিন পেতে সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারীর ভাই বলেন, দুই পক্ষই দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর বোনকে ওসির কক্ষে নিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে চাপ দেওয়া হয়। তবে তাঁর বোন মিথ্যা মামলা করতে রাজি হননি। এ কারণে তাঁকে জেল খাটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ওই স্বজনের দাবি, ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে সংশ্লিষ্টদের থানায় নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের আদালতে পাঠাতে বিলম্ব করা হয়। তাঁরা পুলিশকে আদালতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে সেখান থেকে জামিনের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী বিউটি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, রাত ১২টার দিকে ওসি তাঁকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোনের লক খুলতে বলেন। ফোনটি পরীক্ষা করার পর তাঁকে উদ্দেশ করে বলা হয়, বাঁচতে চাইলে ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। তিনি মিথ্যা মামলা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ধমক দেওয়া হয়। পরে এসআই জসিম তাঁকে হেফাজতে নেন। পরদিন সকালেও মামলা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আটক যুবকের ভাই মো. সোহাগ অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার কারণে তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি গালাগাল করেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআই জসিমকে নির্দেশ দেন। পরে এসআই তাঁকে থানা থেকে চলে যেতে বলেন। সোহাগের দাবি, তাঁকেও টাকা দিয়ে মামলাটি সাধারণ ধারায় নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা দিলে আদালতে পাঠানোর পর জামিন পাওয়া সহজ হবে বলে জানানো হয়েছিল।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে এক যুবকের সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন দুজনকে থানায় সোপর্দ করেন। পরে তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে একাধিক ব্যক্তি ফোন করেন। কিন্তু তাঁদের ছেড়ে না দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সুপারিশকারীদের অনুরোধ রাখা হয়নি বলেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights