কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? জেনে নিন ইসুবগুলের কার্যকারিতা

অনলাইন ভার্সন

ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও কম পানি পানের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। এই সমস্যার প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে ইসুবগুল।

ইসুবগুল কী

ইসুবগুল মূলত প্ল্যান্টাগো ওভাটা উদ্ভিদের বীজ থেকে প্রাপ্ত ভুসি। উদ্ভিদটি পরিপক্ক হলে সেটি ক্ষুদ্র বীজ উৎপন্ন করে যার বাইরের আবরণ আলাদা করার জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই আবরণ, যা ভুসি নামে পরিচিত, বাণিজ্যিকভাবে ইসুবগুল বা সাইলিয়াম ভুসি নামে বিক্রি হয়। যদিও বীজগুলো নিজেই ভোজ্য, তবে ভুসিটি পছন্দ করা হয় কারণ এতে বেশিরভাগ ফাইবার থাকে।

ইসুবগুল দেখতে হালকা রঙের, খসখসে এবং প্রায় স্বাদহীন। এটি তরল পদার্থে দ্রবীভূত হয় না কিন্তু জল বা দুধের সঙ্গে মিশে গেলে দ্রুত ফুলে যায়, যা নরম, জেলের মতো গঠন তৈরি করে। তরল শোষণের এই ক্ষমতা ইসুবগুলকে শরীরের জন্য বিশেষ কার্যকরী করে তোলে।

যেভাবে কাজ করে

ইসুবগুল পানি বা দুধের সঙ্গে মিশে জেলির মতো রূপ নেয়। এই জেলি অন্ত্রের ভেতরে মলের পরিমাণ বাড়ায় ও নরম করে, ফলে চাপ ছাড়াই মলত্যাগ সম্ভব হয়। এটি অন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারেও সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

ব্যবহারের নিয়ম

রাতে ঘুমানোর আগে বা সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই চা-চামচ ইসুবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম পানি, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এরপর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

উপকারিতা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি ইসুবগুল হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গ্যাস ও অম্বল কমায় এবং রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া ইসুবগুল দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights