বন্যা নিয়ে ‘ভুয়া তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে চীনে ১২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
অনলাইন ডেস্ক
চীনের নেপাল সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে গত সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যার পর অনলাইনে ‘ভুয়া তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত ১২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ব্যক্তি বন্যায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছিলেন।
চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ‘সাইবারস্পেস ক্লিনআপ’ অভিযানের আওতায় এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যারা দুর্যোগ নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত’ করছিলেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১০ জনকে প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের ছড়ানো কথিত ভুয়া তথ্যের কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এসব তথ্যের বেশির ভাগই ছিল তিব্বতের দুর্যোগকবলিত গিরং বন্দর এলাকায় মৃত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে অনুমান এবং সরকারি হিসাবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি।
এর মধ্যে একটি দাবিতে সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। চীনা কর্তৃপক্ষ এটিকেও মিথ্যা তথ্যের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সরকারি হিসাবে চীনে নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬
রবিবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং বন্দর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।
বন্যায় নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সোমবার পৃথক এক বিবৃতিতে তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর শাননানের পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অনলাইনে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে আরও দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল।
শাননান পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি পরে কথিত মিথ্যা তথ্যসংবলিত পোস্টগুলো মুছে ফেলেছেন। তবে পোস্টগুলোতে ঠিক কী ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা পরিষ্কার করা হয়নি।
দুর্যোগের পর তথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বিশ্বজুড়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত দাবির বিস্তার দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য উদ্ধার তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারের প্রতি জনঅসন্তোষ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে চীনে অনলাইন তথ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। দেশটির সরকার ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্টের ওপর ব্যাপক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকটের সময় এই নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়।
সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষেত্রেও এমন পদক্ষেপের নজির দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ গিরং বন্দরে বন্যার পানিতে একটি প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্যসংবলিত ভিডিও সরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য হটলাইনও চালু করা হয় রবিবার—দুর্যোগের কয়েক দিন পর।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে মূলত উদ্ধার তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে কী অগ্রগতি হচ্ছে, সে বিষয়ে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর দুর্গম অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের সংখ্যা নিরূপণ এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, আকস্মিক এই বন্যার ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নেপালে নিহত হয়েছে ৯০৩ জন। আর নিখোঁজ রয়েছে চার হাজার ২৪৭ জন। নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন
