সাদা ঝিনুকের খোলসে ছেয়ে গেছে কুয়াকাটা সৈকত

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতের বালুচর ছেয়ে গেছে অসংখ্য সাদা ঝিনুকের খোলসে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে, সৈকতে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশাল সাদা গালিচা। নীল জলরাশি, সোনালি বালু আর সাদা ঝিনুকের এই মেলবন্ধন মুগ্ধ করছে সেখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।

সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় সারি সারি ঝিনুক পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও আবার এত ঘন ঝিনুকের খোলস জমেছে যে নিচের বালু দেখা যাচ্ছে না। পর্যটকদের কেউ ঝিনুক কুড়িয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন অংশে প্রতিবছরই কোনো না কোনো সময়ে সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলস দেখা যায়। তবে এবার এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে লেম্বুরবন দোলনা পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বেশি ঝিনুক দেখা যাচ্ছে। গঙ্গামতি পয়েন্টেও রয়েছে ঝিনুকের সমারোহ।

পর্যটক নাহিদ ও দোলা দম্পতি বলেন, এর আগে কয়েকবার কুয়াকাটায় এসেছি। তবে এবারই প্রথম এত ঝিনুক দেখলাম। দূর থেকে মনে হয়েছিল, বালুর ওপর সাদা পাথর বিছানো হয়েছে। কাছে গিয়ে দেখেন, সেগুলো অসংখ্য ঝিনুকের খোলস।

আরেক পর্যটক যুথিকা বলেন, সাগরের ঢেউ ও সোনালি বালুর সঙ্গে সাদা ঝিনুকের সমন্বয় কুয়াকাটার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঝিনুক দেখতে অনেকক্ষণ সৈকতে হাঁটাহাঁটি করেছি।

পর্যটনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা জনি আলমগীর বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন সময়ে সৈকতে ঝিনুক দেখা যায়। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় এর পরিমাণ অনেক বেশি মনে হচ্ছে। বিশেষ করে লেম্বুরবন ও গঙ্গামতি এলাকায় ঝিনুক বেশি জমেছে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটার যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ঝিনুক পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশেরও অংশ। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য রক্ষা করা গেলে কুয়াকাটার আকর্ষণ আরও বাড়বে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা ঝিনুকের খোলস সমুদ্রে বসবাসকারী ঝিনুক ও অন্যান্য মোলাস্কের অবশিষ্টাংশ। ঝিনুক মারা যাওয়ার পর এর শক্ত খোলস সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকে। পরে ঢেউ, জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোতের টানে এসব খোলস উপকূলের দিকে চলে আসে। ভাটার সময় সেগুলো বালুর ওপর জমা হয়।

তবে এ বছর বিপুল পরিমাণ ঝিনুক একসঙ্গে ভেসে আসার পেছনে কোনো বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবর্তন রয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights