ফুলবাড়ীতে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষ: শুরুর ভালো দামে লোকসান পোষানোর আশা কৃষকদের

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আমন ও আউশ ধান কাটার পর খালি জমিতে পুরোদমে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষ। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ঝুঁকি সত্ত্বেও আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিগত মৌসুমগুলোর লোকসান পুষিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন অনেকেই।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই মাঠে মাঠে চলছে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও আলুর বীজ রোপণের কাজ। বীজ রোপণ ও জমি প্রস্তুতির কাজে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিকও অংশ নিচ্ছেন। এতে স্থানীয় শ্রমবাজারেও কাজের সুযোগ ও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। বর্তমানে ফুলবাড়ীতে দৈনিক ভিত্তিতে পুরুষ শ্রমিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং নারী শ্রমিক ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৭৫০ হেক্টর, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। স্বল্পমেয়াদি ধান কাটার পর কৃষকরা প্রধানত স্টারিক ও রোমানাসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের আলু রোপণ করছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম আলু চাষে শুরুতেই জমি ইজারা, বীজ, সার, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিক মজুরিসহ তুলনামূলক বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের চুক্তিভিত্তিক চাষি আব্দুল জব্বার জানান, দুই বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে তিনি চাষ শুরু করেছেন। আগাম উৎপাদন ভালো হলে মূল বিনিয়োগ উঠে আসার পাশাপাশি ভালো মুনাফার আশা করছেন তিনি।
একই ইউনিয়নের কয়রাকোল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, গত মৌসুমে আগাম আলু তুলে শুরুতেই প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছিলেন, যা থেকে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছেন।
তবে সব কৃষকের অতীত অভিজ্ঞতা সমান নয়। খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের আম্রবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর আলু চাষ করে তিনি লোকসানের মুখে পড়েছেন। তা সত্ত্বেও পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবারও ঝুঁকি নিয়ে আগাম আলুর চাষ করেছেন।
কৃষকদের মতে, আগাম আলু চাষের মূল নির্ভরতা আবহাওয়া এবং প্রাথমিক বাজারদরের ওপর। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, রোগবালাই কিংবা বাজারে আকস্মিক দরপতন ঘটলে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, “সারাদেশের মধ্যে ফুলবাড়ীতে তুলনামূলক আগেই আগাম আলু চাষ ও উত্তোলন শুরু হয়। মৌসুমের শুরুতেই এখানকার আলু দেশের বাজারে পৌঁছানোয় কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান।” তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়াত দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক দাম পেলে আগাম আলু চাষ কৃষকদের বিগত দিনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights