বগুড়ায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২
বগুড়া ব্যুরো
সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যে বগুড়াতেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। তবে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবিবার (১১ অক্টোবর) জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন এস এম নূর ই শাদীদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত বগুড়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৪ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মজিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই মহানগরের বাসিন্দা। কেউ কেউ ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় এসেছেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক কর্নারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
নগরের বউবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান গত তিন-চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। পরে পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অভিযোগ, শহরে লোক দেখানো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
অন্যদিকে, বগুড়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহি (১৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নগরের মালতিনগর এলাকার বাসিন্দা মাহির ধারণা, পড়াশোনার জন্য শহরে যাতায়াতের সময় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
বগুড়া মহানগরের মালতিনগর, বউবাজার, লতিফপুর, কলোনি, ফুলতলা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এসব আবর্জনার মধ্যে পানি জমে রয়েছে। পড়ে থাকা ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনেও জমে আছে পানি। শেরপুর সড়কের এক পাশে ড্রেনের আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। লতিফপুর এলাকায় সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য ও পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
মহানগরের সেইজগাড়ি এলাকার দোকানি মামুনুর রশীদ বলেন, মাঝেমধ্যে সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা ও আশপাশের এলাকায় ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করতে দেখা যায়। তবে এসব এলাকার বাইরে মশক নিধন কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ে না।
বনানী এলাকার শিক্ষক তানভীর আহমেদ বলেন, তাঁদের এলাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
তবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
