কলম্বাসেরও ৫০০ বছর আগেই তারা পৌঁছেছিল আমেরিকায়!
অনলাইন ডেস্ক
১৯৬০ সালে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের ল’আঁস ও মেডোজে ভাইকিংদের একটি প্রাচীন শিবিরের সন্ধান মেলে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে গবেষকেরা কালনির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করে নিশ্চিত করেন যে প্রায় এক হাজার বছর আগেই সেখানে বসবাস করতেন ভাইকিংরা। ধারণা করা হয়, উত্তর আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের আরও গভীরে অনুসন্ধান চালানোর সুবিধার্থে জায়গাটিকে একটি অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯২ সালে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ১২ অক্টোবর বাহামা দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছিলেন। তবে বর্তমানে আমেরিকা নামে পরিচিত এই ভূখণ্ডে পা রাখা প্রথম ইউরোপীয় তিনি ছিলেন না। তার বহু আগেই সেখানে পৌঁছেছিলেন অন্য ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা। তাদের সেই প্রত্যাবর্তনের পর কোনো রাজকীয় ফরমান জারি হয়নি, রাজপথেও জমেনি মানুষের উল্লাস। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে পৌঁছানোর জন্য তারা একবারে বা একটানা বিশাল আটলান্টিক পাড়ি দেননি। বরং আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডকে যাত্রাবিরতির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে ধাপে ধাপে তারা পৌঁছে গিয়েছিলেন আমেরিকায়।
শতাব্দী পেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের রোমাঞ্চকর অভিযানের এই কাহিনি লিপিবদ্ধ হয় বিভিন্ন ‘সাগা’ বা প্রাচীন নর্স উপাখ্যানে। এসব কাহিনি ইতিহাসের গতানুগতিক বিবরণের চেয়ে মহাকাব্যিক সাহিত্যের সঙ্গেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। ভাইকিংদের উত্তরসূরিদের লেখা এই নর্স সাগাগুলোতে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক উপাদান রয়েছে বলে আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ১৯৬৬ সালে বিবিসির উপস্থাপক ম্যাগনাস ম্যাগনুসন চতুর্দশ শতকের ‘ফ্লাতেইয়ারবোক’ বা ‘ফ্লাতেই দ্বীপের বই’-কে বিদ্যমান আইসল্যান্ডীয় পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে অন্যতম মূল্যবান বলে বর্ণনা করেছিলেন। বইটির অসামান্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝাতে তিনি একটি তথ্য তুলে ধরেন। ১৮৯৩ সালে শিকাগো বিশ্বমেলার আয়োজকেরা কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রার ৪০০ বছর পূর্তির বিলম্বিত উদযাপনের জন্য বইটি ধার চেয়েছিলেন। সে সময় দুর্লভ এ পাণ্ডুলিপিটি সংরক্ষিত ছিল ডেনমার্কে।
ম্যাগনুসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি আনার জন্য ডেনমার্কে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিবহনের জন্য সাঁজোয়া ট্রেনের ব্যবস্থা করা এবং বইটির সুরক্ষায় ১০ লাখ ডলারের বিমা করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন মার্কিন আয়োজকেরা। তবে এত সব নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সত্ত্বেও ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ সেই ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। মার্কিন আয়োজকেরা বইটি সংগ্রহ করতে এতটা মরিয়া ছিলেন কেন? কারণ, এতে সংরক্ষিত ছিল দশম শতকে গ্রিনল্যান্ডে নর্সদের বসতি স্থাপনের বিবরণ। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, এর কয়েক বছর পর নর্স অভিযাত্রীদের উত্তর আমেরিকা আবিষ্কার এবং সেখানে বসতি গড়ার প্রাথমিক প্রচেষ্টার রোমাঞ্চকর ইতিবৃত্তও এতে লিপিবদ্ধ রয়েছে; যা কলম্বাসের অভিযানের পূর্ণ পাঁচ শতাব্দী আগের ঘটনা। ১৯৯৭ সালে বিবিসির প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘টাইমওয়াচ’-এর একটি পর্বে রবিন এলিস মন্তব্য করেন যে এটি হারিয়ে যাওয়া এক ইতিহাসের সূচনা, এমন এক সময়ের ইতিহাস যখন ইউরোপীয়রা সমুদ্রযাত্রা করে আমেরিকায় আসতেন, অথচ সেই যাত্রার বিবরণ লেখা থাকত শুধু পানির বুকে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, আনুমানিক ৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে নর্সরা প্রথম আইসল্যান্ডে পৌঁছান। এর প্রায় এক শতাব্দী পর তারা পা রাখেন গ্রিনল্যান্ডে। সেখান থেকে বর্তমান কানাডার বাফিন দ্বীপে পৌঁছাতে ডেভিস প্রণালি হয়ে প্রায় ২০০ মাইলের জলপথ পাড়ি দিতে হয়েছিল তাদের। নর্স নাবিকেরা এই দ্বীপটির নাম দিয়েছিলেন ‘হেলুল্যান্ড’, যার অর্থ ‘পাথরের ফলকের ভূমি’। সাগার বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর তারা উপকূলরেখা ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে ল্যাব্রাডরে পৌঁছান। জায়গাটির নাম তারা দিয়েছিলেন ‘মার্কল্যান্ড’, যার অর্থ ‘বনভূমি’। সেখান থেকে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে তারা এমন এক উর্বর অঞ্চলের সন্ধান পান, যার নাম তারা দেন ‘ভিনল্যান্ড’ বা ‘আঙুরলতার ভূমি’। ২০১৬ সালে ‘টাইমওয়াচ’ অনুষ্ঠানে আইসল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এমিলি লেথব্রিজ বলেন যে সাগাগুলোতে কেবল একটি সুনির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর কথা বলা হয়নি; তারা বিভিন্ন অঞ্চলে থেমেছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে সেখানে তাদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অনুসন্ধানের নেশায় তাদের চোখের সামনে তখন উন্মোচিত হয়েছিল সম্পূর্ণ নতুন এক পৃথিবী। প্রাচীন নর্স সাগা অনুযায়ী, তাদের অন্যতম বিখ্যাত বসতি স্থাপনকারী ছিলেন এরিক দ্য রেড। নরওয়েতে এক হত্যাকাণ্ডের দায়ে নির্বাসিত হয়ে এরিকের বাবা আনুমানিক ৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে আইসল্যান্ডে এসে আশ্রয় নেন। এর আগেই, ৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে আইসল্যান্ডের বাসিন্দারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘আলথিং’ নামের এক পার্লামেন্ট, যা ছিল মূলত গোটা জাতির এক উন্মুক্ত জাতীয় সমাবেশ। আইন প্রণয়ন ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রতি গ্রীষ্মে টানা দুই সপ্তাহের জন্য এই বিশেষ অধিবেশন বসত। সমাবেশের স্থানটিও ছিল প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। একটি গভীর প্রাকৃতিক গিরিখাতের ভেতরে এই অধিবেশন বসত, যা প্রাকৃতিকভাবেই এক অসাধারণ উন্মুক্ত মঞ্চের রূপ নিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে লেথব্রিজ বিবিসিকে বলেন যে শুধু শব্দের জাদুকরী প্রতিধ্বনির কারণেই জায়গাটি বিশেষ নয়, এটি মূলত একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক ফাটল। আমরা এমন একটি মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে উত্তর আমেরিকা ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেট একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থাৎ উত্তর আমেরিকায় পা রাখা প্রথম ইউরোপীয়রা ঘটনাচক্রে দুটি মহাদেশের মধ্যবর্তী এক টেকটোনিক ফাটল উপত্যকায় বসেই তাদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করতেন।
লেথব্রিজ আরও জানান যে পার্লামেন্টে সমাজের প্রচলিত আইন অমান্যকারীদের চরম শাস্তি হিসেবে নির্বাসনে পাঠানো হতো। সাজাপ্রাপ্তরা অন্য যেকোনো দেশে যেতে পারতেন, কিন্তু নির্বাসনের মেয়াদকালে আইসল্যান্ডের মাটিতে পা রাখা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে, ৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিবেশী এক কৃষকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী বিরোধে জড়িয়ে পড়লে ‘আলথিং’ এরিক দ্য রেডকেও আইসল্যান্ড থেকে নির্বাসিত করে। আর এই নির্বাসনের ঘটনাই ভাইকিংদের বিশ্বজয় ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড় এনে দেয়। লেথব্রিজ বলেন যে এরিক দ্য রেডই হলেন প্রথম আইসল্যান্ডবাসী, যিনি গ্রিনল্যান্ড আবিষ্কার করেন এবং সেখানে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলেন। গ্রিনল্যান্ডে এরিকের প্রতিষ্ঠিত সেই ইউরোপীয় উপনিবেশ প্রায় ৫০০ বছর টিকে ছিল। পরবর্তী সময়ে উত্তর আমেরিকার অজানা ভূখণ্ডে নর্সদের দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রধান সূচনাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এই গ্রিনল্যান্ড। তাদের অদম্য সাহস নিয়ে লেথব্রিজ আরও বলেন যে তারা ছিলেন এমন মানুষ, যারা ঝুঁকি নিতে ভয় পেতেন না এবং শারীরিকভাবে চরম প্রতিকূল পরীক্ষার মুখোমুখি হতেও সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন। অজানার সন্ধানে কী পাওয়া যেতে পারে; তা দেখতে কেবল একটি খোলা নৌকায় ভর করে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার মতো অকল্পনীয় দুঃসাহসও তারা দেখিয়েছিলেন। গ্রিনল্যান্ডে নর্সদের এই বসতি পঞ্চদশ শতকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এরিক দ্য রেডের সুযোগ্য ছেলে লেইফ এরিকসনের নেতৃত্বে ভাইকিং নাবিকেরা সেখান থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে একাধিকবার উত্তর আমেরিকায় যাতায়াত করেছিলেন বলে গবেষকদের জোরালো ধারণা। কানাডার ‘মিউজিয়াম অব সিভিলাইজেশন’-এর প্রত্নতত্ত্ববিদ রবার্ট ম্যাকগি ‘টাইমওয়াচ’-কে বলেন যে সাধারণ মানুষের ধারণা, লেইফ এরিকসন ও তার সঙ্গীরা একবার ভিনল্যান্ডে যাওয়ার পর আর সেখানে যাননি এবং নতুন পৃথিবীর সঙ্গে তাদের সব সম্পর্ক চুকেবুকে গিয়েছিল। কিন্তু আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ সাক্ষ্য দেয় যে পরবর্তী দুই থেকে তিন শতাব্দী ধরেও নর্সরা অন্তত বিরতি দিয়ে হলেও এই নতুন দুনিয়ায় নিয়মিত যাতায়াত বজায় রেখেছিলেন।
মধ্যযুগের পুরো সময়জুড়েই গ্রিনল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকা নামে পরিচিত দুই অঞ্চলের উপকূলে ধারাবাহিক নৌচলাচল বজায় ছিল, এমনটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট ঐতিহাসিক যুক্তি রয়েছে বলে ‘টাইমওয়াচ’-কে জানান মধ্যযুগীয় নৌযাত্রার ইতিহাসবিদ কার্স্টেন সিভার। তিনি বলেন যে আমরা জানি, ১৪৮০ সাল নাগাদ তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই উত্তর আমেরিকায় পৌঁছানোর জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। জায়গাটিকে তারা ডাকতেন ‘ব্রাজিল দ্বীপ’ নামে। এটিকে তাদের প্রথম সমুদ্রযাত্রা ভাবা অনুচিত; বরং গ্রিনল্যান্ডকে যাত্রাবিরতি না বানিয়ে সরাসরি উত্তর আমেরিকায় পৌঁছানোর এটিই ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা। এর আগে নৌযাত্রার চেনা পথনির্দেশক ছিল গ্রিনল্যান্ড। সিভার এমন একটি ঐতিহাসিক দলিলের প্রসঙ্গ টানেন, যা থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে ক্রিস্টোফার কলম্বাস নিজেও এসব অভিযানের ব্যাপারে সম্যক অবহিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ১৪৯৭-৯৮ সালের শীতকালে জন ডে নামের এক ইংরেজ নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি ১৪৯৭ সালে অভিযাত্রী জন ক্যাবটের উত্তর আমেরিকায় সফল অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। বহুবিধ প্রসঙ্গের মধ্যে তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই লেখেন যে কলম্বাসের নিশ্চয়ই জানা আছে, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল থেকে আসা অভিজ্ঞ নাবিকেরা তার বহু বছর আগে থেকেই নিয়মিতভাবে এই উত্তরাঞ্চলীয় জলপথে বাণিজ্য ও অনুসন্ধান চালিয়ে আসছেন। ফলে ১৪৯২ সালে কলম্বাস যখন বাহামা দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে নোঙর করেন, তত দিনে ভাইকিংদের মুখে মুখে ফেরা ‘ভিনল্যান্ড’ নামটি তার অজানা থাকার কথা নয়। এমনকি ঐতিহাসিকদের মধ্যে এমন একটি জোরালো তত্ত্বও প্রচলিত রয়েছে যে ইউরোপীয়দের দ্বারা আগেই আবিষ্কৃত হওয়া কোনো চেনা ভূখণ্ড হয়তো সচেতনভাবেই এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন কলম্বাস।
ম্যাকগি ‘টাইমওয়াচ’-কে এই প্রসঙ্গে বলেন যে আজকের আধুনিক নাবিকদের মতো কলম্বাসও খুব ভালো করেই জানতেন যে উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘ সমুদ্র পাড়ি দিতে হলে উত্তরের জলপথ বেছে নেওয়া শ্রেয়, কারণ সেখানে অক্ষাংশের ব্যবধান অপেক্ষাকৃত কম থাকে। সেখান থেকে দ্রুত মহাসাগর পার হয়ে পুনরায় অনায়াসে দক্ষিণে নেমে আসা যায়। তিনি আরও যোগ করেন যে কিন্তু তা না করে কলম্বাস বেছে নিয়েছিলেন সরাসরি সমুদ্রের বুক চিরে যাওয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ। হয়তো তিনি কানাডার উপকূল এড়াতে চেয়েছিলেন; হয়তো বা ভিনল্যান্ডকেও পাশ কাটাতে চেয়েছিলেন। কারণ তিনি আসলে যে ঐশ্বর্যের সন্ধান করছিলেন, সেটি নিশ্চিতভাবেই ভিনল্যান্ড ছিল না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কলম্বাসের মূল পরিকল্পনা ছিল আমেরিকাকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি সুদূর প্রাচ্যের অপার ধনসম্পদের দ্বারে পৌঁছানো। অতএব, আধুনিক মার্কিন নাগরিকেরা প্রতি অক্টোবরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘কলম্বাস দিবস’ পালন করলেও; কলম্বাসের বহু শতাব্দী আগে উত্তাল আটলান্টিকের বুকে বিজয়ের নিশান ওড়ানো সেই নির্ভীক ভাইকিং অভিযাত্রীদের অবদান ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
