যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইরানে পৌঁছেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের প্রতিনিধ দল মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে তারা সেখানে আলোচনা ও পরামর্শে অংশ নেবেন। ওয়াশিংটন থেকে আসা পরস্পরবিরোধী সংকেতগুলোর মধ্যেই এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পক্ষ থেকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যা ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে সতর্কতা জারি করেছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দেশগুলোকে আগামী সপ্তাহের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর স্বল্পমেয়াদী তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
কাতারি প্রতিনিধি দল ভ্যান্সের সেই চিঠিটি পৌঁছে দেয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এড়ানোর লক্ষ্যে ইরানের সামনে একটি নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদপত্রটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চিঠিতে বা পরবর্তী আলোচনায় সুনির্দিষ্ট কোনো শান্তি শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। বরং এতে আলোচনার একটি সম্ভাব্য ‘কাঠামো’ প্রস্তাব করা হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মার্কিন প্রশাসনের আগের যোগাযোগগুলোর তুলনায় এই চিঠির ভাষা অনেক বেশি সম্মানজনক ছিল বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
সারদার জানান, ধারণা করা হচ্ছে ইরানের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে এবং নতুন কূটনৈতিক পথের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতেই কাতারি প্রতিনিধি দল সেখানে গেছে। আল জাজিরার সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দোহা অথবা ইস্তাম্বুলে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা।
