প্রাত্যহিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা যাচাইয়ে নতুন পদ্ধতি আনল ওপেনএআই

অনলাইন ডেস্ক

হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি অনেকেই ব্যবহার করছেন। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবার দাবি করেছে, কেনাকাটা কিংবা দৈনন্দিন বাজেট তৈরির মতো মানুষের প্রাত্যহিক কাজগুলো এআই আরও নিখুঁতভাবে করতে শিখছে। এসব কাজে এআইয়ের দক্ষতা যাচাই করতে ওপেনএআই গত সোমবার একটি অভ্যন্তরীণ টুল এবং নিজেদের এআই মডেলগুলোর মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করেছে।

ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বাসা বদলের পর সঠিক কিন্ডারগার্টেন খুঁজে বের করার কাজে তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এ ছাড়া বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে সাহায্য করতে এটি ৯৮ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীর সঠিক খাবার রুটিন তৈরিতে ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।

মেটা, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার এই সময়ে ওপেনএআইয়ের এই মূল্যায়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ওপেনএআই এআইয়ের দক্ষতা মাপতে ‘জিডিপিভ্যাল’ নামের একটি টুল প্রকাশ করেছিল, যার মাধ্যমে শিল্প, সরকার বা অর্থনৈতিক খাতের কাজে এআইয়ের পারদর্শিতা যাচাই করা হতো।

কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এআইয়ের মূল্যায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, মানুষের কাজের ধরন ও উত্তর ভিন্ন হয়। ওপেনএআই প্রায় ৪ হাজার ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ চালিয়ে জেনেছে, তারা এআইয়ের কাছ থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করে।

জরিপ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা বাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে প্রিয়জনের যত্ন নেওয়ার মতো বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সহায়তা চেয়েছেন। ওপেনএআই মূলত এআইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করার ক্ষমতা, পুরোনো চ্যাটের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেওয়ার পারদর্শিতা এবং ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধান দেওয়ার দক্ষতা যাচাই করছে।

ওপেনএআই চায়, চ্যাটজিপিটি সাধারণ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও একজন দক্ষ সহকারীর ভূমিকা পালন করুক, যাতে মানুষের জীবনের কাজগুলো আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights