ইরানে ফের হামলার ছক? ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা নিয়ে জল্পনা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প এখনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তার অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়ার আগেই দুই নেতার মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে হোয়াইট হাউস দুই নেতার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ ধরনের আলোচনার খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, সূত্রগুলোর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার অবস্থান পরিবর্তন করলে যাতে দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করা যায়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থানকে অনিশ্চিত বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন, তবে হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানসংক্রান্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ইরান আবারও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে আলোচনা হয়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজে দেশটি পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনা ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়েও কথা বলেন দুই নেতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্ব ইরানে নতুন করে হামলার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থানে রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের অধিকাংশ উপদেষ্টা সামরিক অভিযান শুরুর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে সতর্ক করেছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights