জুলাইয়ের আগে হচ্ছে না সিটি ও পৌর নির্বাচন

গোলাম রাব্বানী
আগামী বছরের জুলাইয়ের আগে হচ্ছে না সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন। যদিও নির্বাচন কমিশন সিটি ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা ও ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করে রেখেছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা রয়েছে ৩৩১টি। এর মধ্যে তিনটি পৌরসভা নির্বাচন উপযোগী নয়। দুটিতে মামলা ও একটিতে সীমানা নির্ধারণ জটিলতা রয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট হবে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। এ জন্য আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের আগে নির্বাচন কমিশন ১৩ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো পরিকল্পনা নেই।

সিটি করপোরেশন : সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মোট ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে স্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে ২৩ হাজার ১০৭টি এবং অস্থায়ী ১ হাজার ৯৫৮টি। সব মিলিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকক্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৬৫টি।

পৌরসভা নির্বাচন : পৌরসভা নির্বাচনের জন্য মোট ৫ হাজার ২০২টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৫ হাজার ১৮৪টি এবং অস্থায়ী ১৮টি। এসব কেন্দ্রে মোট ২৫ হাজার ৯৬৬টি ভোটকক্ষ থাকবে। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ২৪ হাজার ৭৬৯টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৯৭টি।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে শেষ করা হবে। তাই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর ভোট জুলাইয়ের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইসি ঘোষিত পরিকল্পনায় প্রথমে ইউপি এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করার কথা রয়েছে। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পৌরসভা নির্বাচন জানুয়ারিতে হবে কি না এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচন পর্যায়ক্রমে হবে। রমজানের আগেই দুই হাজার ইউপিতে ভোট হবে। তবে রোজার পরে আবার কবে নির্বাচন শুরু হবে সেই বিষয়ে এখন কিছুই বলা সম্ভব নয়। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে পারব। রমজানের আগে তিন ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ইউপিতে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যে তারিখে ভোট গ্রহণ হবে তা থেকে ৪০-৪৫ দিন আগেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে জানতে চাইল নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে ইউপি নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর মেয়াদি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই এখন ভোটের উপযোগী। আর স্থানীয় সরকারের চার স্তরের ভোট শেষে পরোক্ষ ভোটে জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। সবশেষ ইউপি ভোট হয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সাত ধাপে। সাড়ে চার হাজার ইউপি নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। সারা দেশে ৩৩১টি পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২১ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও ২০ সেপ্টেম্ব ১১টি পৌরসভায় ভোট হবে। সব মিলে ছয় ধাপে শেষ হয় পৌরসভা ভোট। উপজেলা রয়েছে ৫০০টি। সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে চার ধাপে এবং বিভিন্ন ধাপে স্থগিতগুলো নিয়ে আরেকটি বিশেষ ধাপ মিলিয়ে পৌনে পাঁচ শ উপজেলার ভোট হয়। ১৩ সিটি করপোরেশনের মধ্যে সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চে ময়মনসিংহ সিটিতে ভোট হয়েছে। এ বছর মে মাসে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠিত হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম সিটি, ২০২২ সালের জুনে কুমিল্লা সিটি ও ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে গাজীপুর সিটি, জুনে খুলনা সিটি ও বরিশাল সিটি এবং রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights