দিনাজপুরে পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
বিষমুক্ত বিভিন্ন সবজি চাষ করে নিজে খাব এরপর বিক্রি করব- এই প্রত্যয় নিয়ে বিভিন্ন সবজির বাগান গড়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের সুজালপুর ইউপির বর্ষা এলাকার মো. ইমরুল আহসান। তার পরিবার এখন বিষমুক্ত সবজি, এমনকি পুকুরের মাছ খেতে পারে। এছাড়াও ৫-৬ জনের কর্মসংস্থানও হয়েছে। একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে চাষ উপযোগী করে ভাল ফলনে তার সফলতার অনুপ্রেরণায় স্থানীয় বেকার যুবকসহ অনেকে এসব বাগান করতে সংকল্প করছে।
ভেজাল-রাসায়নিক সার ব্যবহারে পরিবেশ ও ফসলী জমির মারাত্মক ক্ষতি ছাড়াও মানুষের জীবন নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি করছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ও উৎপাদিত খাদ্য শষ্যের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে অর্গানিকভাবে উৎপাদনে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তিনি কৃষিজাত স্ববজী জাতীয় ফসল লাউ, মরিচ, পেপে, শাকস্বব্জীসহ কয়েক প্রকারে ফসল উৎপাদন করছেন। সবজি বাগানে বারোমাসি সজনা, সিডলেসসহ ৩ জাতের লেবু, টকলেডি জাতের পেঁপে রয়েছে। এছাড়াও গড়ে তুলেছেন ফুলের নার্সারী। আশা করছেন, ভবিষ্যতে ব্যাপক লাভবান হওয়া যাবে।
দিনাজপুর হর্টিকালচারের সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. ইমরুল আহসান জানান, পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আমি জৈবিক বালাইদমন ফাঁদ বা সেক্স ফেরোম্যান ট্রাপ পদ্ধতি গ্রহণ করি। আমি কোন প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না। আবার দেশি জাতের ৫ শতাধিক হাসের খামার করেছি। এটিও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং ডিম দিচ্ছে। তিনি জানান, আমার ১৬ শতক নিজ জমিতে মাস খানেক আগে শুরু করি উন্নত জাতের লাউ চাষ। আমাদের প্রয়োজনেই পরিবেশকে রক্ষা করার সাথে সাথে ভেজালমুক্ত খাদ্য খেয়ে সুস্থ জীবনধারন করি। কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই অর্গানিক পদ্ধতি কৃষিতে ব্যবহারে আকৃষ্ট করতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশের কৃষক এবং বিষমুক্ত হবে ফসল।
