নাসিক প্রশাসকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু স্বাক্ষরিত নোটিশে তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত।

নোটিশে আরও বলা হয়, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাঁর সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাঁকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই নেতাকে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সস্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ সহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে শোকজ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমাকে অফিসিয়ালি কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। আমি হোয়াটসঅ্যাপেই শোকজের জবাব দিবো। যে ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রিক। সেখানে মহানগর বিএনপিকে টেনে এনে চিঠি দেয়া লজ্জাজনক।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। সে হিসেবে তার সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। দলের নিয়ম অনুযায়ীই শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব না দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিএনপিপন্থী দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একসময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে হেনস্তা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights