নোবেলের দৌড়ে এবারও ট্রাম্পের হার, পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লে
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এবারও পুরস্কার পাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান, মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে দীর্ঘদিনের ভূমিকার জন্য পিল্লেকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিভিন্ন সংঘাত বন্ধ ও প্রতিরোধে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। গত ৭ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই সম্ভবত এতগুলো যুদ্ধের সমাধান করেননি।
ট্রাম্পের দাবি করা সংঘাতগুলোর মধ্যে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতও রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ ও বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টিও নিজের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
তবে তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের উদ্যোগ এগোতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ পরিচয়ের বিপরীতে যুদ্ধ
নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরলেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সামরিক সংঘাত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালায়। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা ওই সংঘাতের অবসানে আলোচনাও চলছে।
ট্রাম্পের নোবেল না পাওয়ার সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপের প্রেক্ষাপটেও দেখছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতটির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপও এ আলোচনায় এসেছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেলেও ট্রাম্প এর আগে অন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাঁকে সংস্থাটির প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। তবে নোবেল ইনস্টিটিউটের ভাষ্য, পুরস্কার ঘোষণার পর তা বাতিল, ভাগাভাগি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না।
নাভি পিল্লে কে
নাভি পিল্লে দক্ষিণ আফ্রিকার একজন আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং জাতিসংঘে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার সময় পিল্লে জার্মানির নুরেমবার্গে মানবাধিকার আইনজীবীদের এক সম্মেলনে ছিলেন। তাঁর নাম ঘোষণার পর সহকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। আবেগাপ্লুত পিল্লে রসিকতা করে বলেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা আরও কিছুক্ষণ করতালি দিলে তিনি হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।
পরে তিনি বলেন, এ সম্মেলনে সহকর্মীদের করতালি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জনসাধারণ কোনো পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যোগ্য মনে না করলে সেই পুরস্কার পাওয়ারও বিশেষ অর্থ থাকে না।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
