রাত পোহালেই এইচএসসির ফল, অপেক্ষায় সাড়ে ১২ লাখ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক

রাত পোহালেই শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে। সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর অনলাইনে ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ফল ঘোষণার পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে অন্য অনুষ্ঠান থাকায় স্থান পরিবর্তন করে সচিবালয়ে আয়োজন করা হয়েছে।

যেভাবে জানা যাবে ফল
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল তিনটি মাধ্যমে জানা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ছাড়াও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইট দুটি হলো eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd।

এ ছাড়া মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। যেমন, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীকে লিখতে হবে: HSC DHA 123456 2026।

শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিসে সরাসরি ফল পাওয়া যাবে না।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
প্রকাশিত ফলে সন্তুষ্ট না হলে শিক্ষার্থীরা রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে অনলাইনে; সরাসরি বা ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

পরবর্তী ধাপে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে যেতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে দুই পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।

নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। ফি দেওয়ার পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদন সম্পন্ন হবে। বিস্তারিত নিয়ম জানতে পোর্টালের ‘হেল্প’ অপশন ব্যবহার করা যাবে।

আবেদন জমার আগে বিষয় নির্বাচনে সতর্কতা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ অপশনে গিয়ে নির্বাচিত বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তবে ফি পরিশোধের পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একবার কোনো বিষয়ের ফি জমা দেওয়া হলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।

পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তবে প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।

গত ২ জুলাই শুরু হয় এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

সব মিলিয়ে শনিবার সকাল ১১টায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর প্রতীক্ষিত ফল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights