শুক্রবারও অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস
অনলাইন ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রতিনিয়ত চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন নগরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার ছুটির দিনেও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) প্রকাশিত হালনাগাদ সূচক থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, আজ ঢাকার বায়ুমান স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৭২, যাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এই সূচকে ১৭২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে ঢাকা।
এদিকে আইকিউএয়ারের আজকের তালিকায় বায়ুমান স্কোর ২১৭ নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর। বাতাসের এই মান নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর, যার বায়ুমান স্কোর ২১০। ১৮৬ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর এবং ১৭৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়।
আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইকিউএয়ারের মানদণ্ড পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বাতাসের মানদণ্ডে শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ‘অনেক ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ বলে গণ্য করা হয়। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে বিবেচনা করা হয় ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে। সূচকে স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর ঘরে পৌঁছালে তা সাধারণ নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। অন্যদিকে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বায়ুর মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর হলে তা চরম জনস্বাস্থ্য হুমকি বা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পরিবেশ নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের সার্বিক বায়ুমণ্ডলের বায়ুর মান বা একিউআই প্রধানত পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উপাদানগুলো হলো; বাতাসে ভেসে থাকা বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে প্রধানত তিনটি বড় উৎস কাজ করছে; সেগুলো হলো ঢাকার আশপাশের ইটভাটা, অভ্যন্তরীণ যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া এবং নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণ সাইটের ধূলিবালি।
বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্য ও গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের প্রভাবে মানুষ প্রতিনিয়ত মারাত্মক সব ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের হার বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া এই বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
