সাজা শেষে খালাস পেয়েও প্রত্যর্পণ জটিলতায় নেত্রকোনার কারাগারে চার ভারতীয়
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া চার ভারতীয় নাগরিক বিচারিক কার্য শেষে খালাস পেয়েও কারাগারে বন্দি রয়েছেন। প্রত্যর্পণ আইনি জটিলতায় মিলছে না মুক্তি। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারতীয় দূতাবাসকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ব্যবস্থা নিলেই দেশে ফিরতে পারবেন ভারতীয় বন্দিরা।
বন্দিরা হলেন- ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা থানার মালদা পশ্চিম পাড়ার সুরত মন্ডলের ছেলে মো. মহিদুল মন্ডল (২৭), বাঘমারা জেলার সদর থানার পাঁচগাও গ্রামের মৃত জংশনের ছেলে রাজু মারাক ওরফে সঞ্জুক, একই জেলার গিটিংরে গ্রামের জিকুব আর মারাকের ছেলে সেঙ্গাম এম সাংমা (২৪) ও বাগমারা থানার মহাদেব বনবেড়া গ্রামের মৃত মদন মারাকের ছেলে পিন্টু সাংমা।
কারাগার ও মামলা সূত্র জানায়, মো. মহিদুল মন্ডল (২৭) দুর্গাপর থানার টি আর ও জি আর মামলায় গত ২০২৫ সালের ১১ জুলাই কারাগারে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে চলতি (২৬ সালের) বছরের ২৪ আগস্ট র্দুগাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত থেকে খালাস পান। তিনি দুইমাসের অধিক সময় ধরে জেলে আছেন।
রাজু মারাক ওরফে সঞ্জুক কে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত থেকে আটকের পর ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল মামলায় গত ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই আদালত তাকে খালাস প্রদান করে। তিনি এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্দি।
পিন্টু সাংমা নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা দিয়ে আটকের পর অনুপ্রবেশ আইনে গত ২০২৩ সালের ৭ মে আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনায় কারাবন্দি হন। এরপর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২০২৫ সালের ৯ জুলাই অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত থেকে খালাস পান। তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি রয়েছেন।
বাগমারা জেলা সদরের গিটিংরে গ্রামের সেঙ্গাম সাংমা দুর্গাপুর থানায় আটক হয়ে গত ২০২৪ সালের ৭ মার্চ কারাগারে যান। তারও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৮ তারিখ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত থেকে খালাস পান। কিন্তু খালাস পেলেও তারা চারজনই প্রত্যর্পণ আইনি জটিলতা শেষ না হওয়ায় নেত্রকোনা কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।
নেত্রকোনা জেলা কারাগারের জেলসুপার মো. আব্দুল্লাহ ইবনে তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, ভারতীয় এই চার নাগরিক বিভিন্ন মামলায় সাজা শেষে খালাস পেয়েছেন। কারাবন্দিদেরকে প্রত্যর্পণ করার জন্য অধিদপ্তরের মহা পরিদর্শক স্যারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতীয় দূতাবাস খালাস পাওয়া বন্দিদেরকে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ মোতাবেক ফেরত নেবে।
