অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক শিক্ষার্থীর মাকে অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আবু সাঈদ (৩৬) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার মাদ্রাসা শিক্ষককে আবু সাঈদ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের দিঘীরহাটের রোয়াগাও এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। তিনি উপজেলার লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম। এদিন দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ডাকবাংলোর পেছনে অবস্থিত লালমাটিয়া নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১নং আসামি স্থানীয় ফরিদুলের সাথে। সেই সুবাদে ফুরিদুলের সাথে তার ভিডিও কলে কথা হয়। এই সুযোগে ফরিদুল মোবাইল ফোনে স্ক্রিন ভিডিও করে রাখেন এবং বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অশ্লীল ছবিও নেয়। পরে এসব ভিডিও ও ছবি মাদ্রাসা শিক্ষক আবু সাঈদ ও এজাহারের ৩নং আসামি মোহন মাস্টারকে দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর দুপুরে গ্রেপ্তার আবু সাঈদ ভুক্তভোগীকে মাদ্রাসায় ডেকে নেয়। পরে অফিস কক্ষে গ্রেপ্তার আবু সাঈদ ও মোহন মাস্টার এসব ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে এসব ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। পরে ভুক্তভোগী মানসম্মানের ভয়ে তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার দিয়ে ওইসব ভিডিও ও ছবি ডিলিট করতে বলেন। কিন্তু তারা ডিলিট না করে আরও টাকা দাবি করতে থাকে। এরপর গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে ভুক্তভোগীর বাসায় এসে তারা ৫২ হাজার টাকা দাবি করে এবং ডাকবাংলো যেতে বলে। বিষয়টি ভুক্তভোগীর স্বজনরা টের পেয়ে টাকা দেওয়ার সময় ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই দিনই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে রবিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights