আইসিসিবিতে সুপার সেল কার বাজারে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়
অনলাইন ডেস্কড়
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অষ্টমবারের মতো বসেছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। টানা সাত সপ্তাহ দারুণ সাড়া পাওয়ার পর অষ্টম সপ্তাহের মতো শুক্রবার বসেছে গাড়ি কেনাবেচার এ আসর।
এ আসরে ক্রেতারা যেমন নিজেদের পছন্দের গাড়ি কিনতে পারছেন, তেমনি বিক্রেতারাও নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ি উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে পারছেন।
সুপার সেল কার বাজারে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি। পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন গাড়িও। দলে দলে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে নিজেদের পছন্দের গাড়িগুলো দেখছেন। গাড়ির কালার কোড থেকে শুরু করে ডেকোরেশন, ইঞ্জিনের অবস্থা, ব্যাটারির স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য নিচ্ছেন। যেসব গাড়ি বিক্রির উপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে বা দাম নিয়ে সমঝোতা হচ্ছে, সেগুলো টেস্ট ড্রাইভে নেওয়া হচ্ছে।
কার বাজারে ক্রেতাদের নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সুবিধা রয়েছে। ঋণ দেওয়ার জন্য বাজারে রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ। পাশাপাশি ট্রাক, বাইক, প্রাইভেটকার, জিপ, প্রাডো, পাজেরোসহ হুন্দাই, মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডিসহ নানা ব্র্যান্ডের গাড়ি নজর কেড়েছে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ কার বাজারে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ফুড জোন। সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ নিতে পারছেন তারা। এ ছাড়া সুপার সেল কার বাজারের প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ক্রেতাদের সহযোগিতা করছেন।
প্রতিটি গাড়ির সামনে ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রদর্শন করা হয়েছে প্রাইস কার্ড। সেখানে গাড়ির মডেল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ওজন ও দাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া গাড়ি কেনাবেচার এ আসর এখন থেকে নিয়মিত প্রতি শুক্রবার বসছে। কোনো রকম ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই এখানে পছন্দের গাড়ি কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
‘সুপার সেল কার বাজার’ উদ্বোধনের দিন থেকেই অনেকের নজর কেড়েছে। অনেক ক্রেতাই মনে করছেন, বহুবিধ ব্যস্ততার এ শহরে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। ক্রেতাদের নিয়মিত এ সুবিধা দিতেই আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বসেছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।
নতুন, পুরোনো ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকলের বিশাল সমাহার রয়েছে এ কার বাজারে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ। ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। এ আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
কার বাজারে পুরোনো গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পরামর্শ দিতে রয়েছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘যখন কোনো গ্রাহক গাড়ি কিনতে আসেন, তখন গাড়ি সম্পর্কে তার তেমন ধারণা থাকে না। সে ক্ষেত্রে একজন এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়, যিনি গাড়িটি পরীক্ষা করে দেবেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে গাড়ি কিনলে গ্রাহক সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন। আমরা গ্রাহকদের এই সহায়তা দিয়ে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘গাড়ির কোনো দুর্ঘটনার ইতিহাস আছে কি না, গাড়ির বাহ্যিক বা ভিজ্যুয়াল অবস্থা কেমন, ইন্টেরিয়র বা ভেতরের অংশগুলোর অবস্থা কেমন, ভেতরের অপারেটিং সিস্টেম ও ফাংশনগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, এসব বিষয় আমরা পরীক্ষা করি। গিয়ারবক্স, ইঞ্জিন, ব্রেক, সাসপেনশন ইত্যাদি ঠিক আছে কি না, একটি গাড়ি পরীক্ষা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার প্রতিটি ধাপই আমরা যাচাই করে থাকি।’
ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা করে গাড়িটি সম্পর্কে বিস্তারিত ও স্পষ্ট একটি প্রতিবেদন সুপার সেল কার বাজারের গ্রাহককে দিয়ে থাকি। এ ছাড়া গাড়ির বর্তমান অবস্থা কী এবং কী পরিমাণ খরচ হতে পারে, তারও একটি হিসাব প্রতিবেদন আকারে গ্রাহককে দেওয়া হয়। এতে গ্রাহক সহজে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘একজন গ্রাহক ২০ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার পর দেখা গেল, দুই দিন পরপর তাকে ওয়ার্কশপে যেতে হচ্ছে। অথবা সার্ভিস করাতে গিয়ে দুই-আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেল। গ্রাহক যেন এমন হয়রানিতে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা কার বাজারে এ সহায়তা দিয়ে থাকি। এর ফলে গ্রাহকেরা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঝামেলা বা সমস্যায় পড়া থেকে রক্ষা পান।’
তিনি আরও জানান, ‘কার বাজারে আজও একটি গাড়ি পরিদর্শন করে দেখেছি, গাড়িটি দেখতে খুব সুন্দর এবং সবকিছু ঠিক আছে। তবে গ্রাহকের উদ্বেগ ছিল, গাড়ির পেইন্ট আসল কি না। এক ক্রেতা আমাদের কাছে পরামর্শ চাইলে আমরা পরীক্ষা করে দেখি, গাড়ির কালার কোড ঠিক আছে, অর্থাৎ যে রং সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিই রয়েছে। কিন্তু পেইন্টটি পুনরায় করা হয়েছে, অর্থাৎ এটি আসল পেইন্ট নয়।’
সাধারণ মানুষের পক্ষে গাড়িতে বড় ধরনের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি, জোড়া লাগানো বা কাটা গাড়ি রয়েছে কি না, তা বোঝা কঠিন বলেও জানান তিনি।
