খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় ৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

বান্দরবান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বমু খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১২ পাড়ার ৫ হাজারের বেশি মানুষ। প্রায় ১৮০ ফুট প্রশস্ত খালটি পার হতে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিতে হয় স্থানীয়দের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

চিনতাবাপাড়া, তলইপাড়া, লুলাইং, কচুছড়াপাড়া, তুলাতুলিপাড়া, ডেকিছড়াপাড়াসহ ১২টি পাড়ার মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে বমু খালটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে খাল পার হওয়া গেলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও পানির স্রোত বেড়ে গেলে ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

বমু খালের এক প্রান্তে রয়েছে চিনতাবাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়টির সভাপতি বলেন, বিগত সময়ে আমরা ব্রিজের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ব্রিজটি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সেতুর অভাবে শুধু শিক্ষার্থী নয়, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে পানির স্রোত বেড়ে গেলে যোগাযোগ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়।

এলাকার মানুষের বড় একটি অংশ কৃষিনির্ভর। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হলেও বমু খাল পার হতে হয়। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, আমরা এখানে চাষাবাদ করি। ব্রিজ না থাকায় আমাদের বাজারজাত করতে সমস্যা হয়। এর ফলে আমাদের ক্ষতি হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেনচিং মুরং জানান, সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রকৌশলীরা একাধিকবার সম্ভাব্য স্থান পরিমাপ করেছেন। কিন্তু এরপরও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

বান্দরবান এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রণী সাহা জানান, সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights