বনে আগুন দেয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আলজেরিয়ার নিম্নকক্ষে বিল পাস
অনলাইন ডেস্ক
বনে আগুন দিয়ে দাবানলের সৃষ্টি করলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি নতুন বিল পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, আলজিয়ার্স সরকার এই কঠোর আইনটি মূলত রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে ব্যবহার করার পায়তারা করছে।
দেশটির ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলি (এপিএন) গত বৃহস্পতিবার দণ্ডবিধি সংশোধনের পক্ষে ভোট দেয়। নতুন আইন অনুযায়ী, যারা জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা, জাতীয় ঐক্য অথবা অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া যাবে। আলজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিধ্বংসী দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর পর গত সেপ্টেম্বরেই প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন এই আইন সংশোধনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি ১৯৯৩ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশ ধরে রেখেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই পার্লামেন্টকে এই আইন গ্রহণ না করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই উদ্যোগকে অত্যন্ত পশ্চাৎপদ প্রতিক্রিয়া হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, কর্তৃপক্ষের উচিত বারবার ঘটে যাওয়া দাবানলের মোকাবিলায় মানবজীবন রক্ষা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নতিতে মনোযোগ দেওয়া।
অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলির একটি জোট কর্তৃপক্ষের কাছে দণ্ডবিধির এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। তাদের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কখনোই অপরাধীদের অগ্নিকাণ্ড ঘটানো থেকে নিরস্ত করতে পারেনি। তবে তারা এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া প্রাণহানি ও ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় এনে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা উচিত।
এর আগে ২০২১ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময় আলজেরিয়া অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছিল, যার মধ্যে ‘মুভমেন্ট ফর দ্য সেলফ-ডিটারমিনেশন অফ কাবিলি’ (এমএকে)-এর সাতজন সদস্য ছিলেন। তৎকালীন সময়ে এই দলটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।
নতুন এই আইনের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে দেশটির বিচারমন্ত্রী লুতফি বুজমা বলেছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান গ্রহণ করাই অপরাধ দমনের সবচেয়ে উপযুক্ত আইনি জবাব।
যদিও দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে, তবুও এর আগে বেশ কিছু সন্ত্রাসী মামলায় আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট তেববুন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আসামিদের আপিল প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেই সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
জাতীয় পরিষদ অর্থাৎ নিম্নকক্ষে পাসের পর আইনটি এখন পর্যালোচনার জন্য পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ‘কাউন্সিল অফ দ্য নেশন’-এ পাঠানো হবে। এরপরেই প্রেসিডেন্ট তেববুনের চূড়ান্ত অনুমোদনে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর আইনে পরিণত হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
