বিষাক্ত ইনজেকশনের মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন সেই নারী
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে ক্রিস্টিয়া পাইকের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুটি ইনজেকশন প্রয়োগের পরও মৃত্যু হয়নি। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই জ্ঞান ফিরে পান তিনি। বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন এই নারী।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সেই রাতের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন ক্রিস্টিয়া পাইক।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েই রিভারবেন্ডের পুরুষ কারাগারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুতও করেছিলেন। পাশে থাকা সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করতে আসা ব্যক্তিদের জানিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি তাঁর মমতা রয়েছে।
তবে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরের ঘটনাগুলো তাঁর আর মনে নেই। ইনজেকশন দেওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কয়েক দিন পর হাসপাতালের বিছানায় জেগে ওঠেন বিভ্রান্তি ও তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে।
নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্রিস্টিয়া বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে সারাক্ষণ ব্যথা অনুভব করছেন। হাত ও গলায় ব্যথার পাশাপাশি কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, যন্ত্রণাটি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও আত্মিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালে তাঁর হাতে নিহত সহপাঠীর পরিবারের কষ্টের কথাও এখনো ভাবেন বলে জানিয়েছেন।
ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন জানিয়ে ক্রিস্টিয়া বলেন, তিনি আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছেন। তবে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া আর পুরোপুরি ভালো থাকা এক বিষয় নয়।
বর্তমানে কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে একাকী দিন কাটছে তাঁর। অন্য বন্দি ও মানুষের সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি তাঁকে আরও মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। দীর্ঘ ২৮ বছর কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে কাটানোর পর আবারও একই ধরনের একাকিত্বের মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে সাহস জোগাচ্ছে। পরিচিত-অপরিচিত যাঁরা তাঁর জন্য প্রার্থনা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ক্রিস্টিয়া। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, আইনজীবী এবং তাঁর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে নিজের বেঁচে যাওয়ার কারণ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন ক্রিস্টিয়া। কেন সেদিন তিনি বেঁচে গেছেন, তা জানেন না উল্লেখ করে বলেন, সামনে কী ঘটবে, সেটিও তাঁর অজানা। এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য সুস্থ হয়ে ওঠা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে নিজের এক সহপাঠীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত হন ক্রিস্টিয়া পাইক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সূত্র : সিএনএন।
