সাফল্যের পিছনে নতুন করে দৌড়াতে চাই না: সৃজিত
অনলাইন ডেস্ক
পুজার আবহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে পরিচালক সৃজিত মুখার্জির নতুন সিনেমা ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। ছবিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী। সিনেমাটি ঘিরে অভিনেতা নির্বাচন, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত সমীকরণ নিয়ে কথা বলেছেন সৃজিত ও টোটা।
শরৎচন্দ্রের চরিত্রে টোটা রায়চৌধুরীকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে এলো—এমন প্রশ্নে সৃজিত জানান, টোটা তার প্রথম পছন্দ হলেও শুরুতে অন্য অভিনেতার কথাও তার মাথায় ছিল। শরৎচন্দ্রের বিভিন্ন বয়সের ছবি নিয়ে দীর্ঘদিন ভাবার পর শেষ পর্যন্ত টোটাকেই চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত মনে হয় তার।
অন্যদিকে প্রস্তাব পাওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ নীরব ছিলেন টোটা। তিনি জানান, সৃজিতের প্রস্তাব শুনে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। এত বড় চরিত্রে অভিনয় করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না, তা নিয়েও ভাবনা ছিল। তবে পরিচালকের ওপর তার আস্থা থাকায় শেষ পর্যন্ত রাজি হন।
সৃজিতের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে টোটা বলেন, পরিচালক তার সিনেমার প্রতিটি বিষয় নিয়ে অত্যন্ত পরিষ্কার থাকেন। ফলে অভিনেতার দায়িত্বও বেড়ে যায়। পরিচালকের ভাবনাকে বুঝে তার মধ্যে নিজের অভিনয়ের জায়গা তৈরি করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
শুটিংয়ের সময় সৃজিতের মাথা গরম করার প্রসঙ্গ উঠলে পরিচালক জানান, তিনি চিৎকার করে পরিস্থিতি সামলাতে চান না। তবে শুটিংয়ে কোনো সমস্যা হলে তা দলের সদস্যরা বুঝতে পারেন। যদিও ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এর ক্ষেত্রে তেমন কোনো বড় সমস্যা হয়নি বলেই জানান তিনি।
পুজায় একাধিক সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় প্রতিযোগিতা নিয়েও কথা বলেন সৃজিত। তার দাবি, অন্য ছবির তুলনায় তার সিনেমার হলসংখ্যা কম হতে পারে। তবে ছবিটি ভালো ফল করবে বলে তিনি আশাবাদী।
সাফল্য নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সৃজিত বলেন, নতুন করে সাফল্যের পেছনে ছুটতে চান না তিনি। ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ব্যবসাসফল সিনেমার পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসা পায়, এমন একটি ছবি নির্মাণের চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতার ওপর জোর দিয়ে সৃজিত বলেন, প্রতিযোগিতা থাকা ভালো, তবে সেটি যেন কোনোভাবেই মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। অতীতে প্রতিযোগিতা কখনও কখনও অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে টোটা রায়চৌধুরী জানান, ক্যারিয়ারে সাফল্য ও ব্যর্থতা—দুই অভিজ্ঞতাই তার হয়েছে। একসময় বাংলা সিনেমায় তাকে কম কাজ দেওয়া হলেও বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগত হীনমন্যতা হিসেবে দেখেননি। বরং মনে করেছেন, এতে তার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিরও ক্ষতি হয়েছে।
