সীমান্ত পেরিয়ে হাতীবান্ধায় আসা সেই বাঘের খোঁজ মেলেনি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে তিনজনকে আহত করা সেই চিতাবাঘের সন্ধান পাঁচ দিনেও মেলেনি। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারি এলাকায় বাঘটিকে দেখার দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা। এরপর থেকে আমঝোল ও সিঙ্গিমারিসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার রাতে সিঙ্গিমারি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বাঘটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। বাঘটি যাতে লোকালয়ে ঢুকে মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য গ্রামের যুবকেরা লাঠি ও টর্চলাইট নিয়ে সারা রাত পাহারা দিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণে এক নারীসহ তিনজন আহত হন।

বিভাগীয় বন ও সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা নুর ইসলাম মোবাইলে বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে বাঘের চলাচলের চিহ্ন বা পদছাপ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি ও কৌতূহলী ভিড়ের কারণে বাঘটি ভয় পেয়ে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে বা বনাঞ্চলে সরে গিয়ে থাকতে পারে।’

শুক্রবার হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র জানান, ‘গত পাঁচদিন ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়েও বাঘের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। যেহেতু, দীর্ঘ এই তল্লাশিতে বাঘের কোনো উপস্থিতি বা অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি, সে কারণে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও যে দুটি বিশেষজ্ঞ টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছিল, তারা বৃহস্পতিবার তাদের কার্যক্রম শেষ করে চলে গেছেন।’

তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছিল, তাদেরকে ইতোমধ্যে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি কেউ বাঘের বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণীর কোনো ধরনের পায়ের ছাপ বা সন্দেহজনক চিহ্ন দেখতে পান, তবে যেন বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানান।

সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবাসীর সুরক্ষায় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সব সময় তাদের টহল কার্যক্রম অত্যন্ত কঠোরভাবে অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে সীমান্তবাসীর চিন্তার বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপদ, স্বাভাবিক ও আশ্বস্তকর পরিস্থিতি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights