হরমুজ প্রণালিতে তিন তেলবাহী জাহাজে আগুন, মাইন বিস্ফোরণের দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি, অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে চলাচলের সময় জাহাজগুলো নৌমাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরে যায়।

এর মধ্যে একটি সুপারট্যাংকারে দুই মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল ছিল। তবে ইরানের এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা এপি। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানায় এপি। আইআরজিসি বলেছে, সুপারট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালির একটি নৌমাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয়। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রণালির প্রবেশমুখে আগুন নিয়ে ভাসতে থাকে। তবে জাহাজটির নাম, ক্রুদের অবস্থা কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তেহরান।

এর আগে একই দিনে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজে মাইন বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কথা জানায় ইরানের নৌবাহিনী। তাদের দাবি, জাহাজগুলো নেভিগেশন ও অবস্থান শনাক্তকরণব্যবস্থা বন্ধ করে অনুমতি ছাড়া প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করছিল। বারবার সতর্ক করার পরও তারা নির্দেশনা মানেনি।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ জলপথের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথগুলো থেকে সমুদ্র মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

জাহাজে বিস্ফোরক লাগানোর খবর

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও শুক্রবার আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে চলাচলকারী একটি ট্যাংকারের গায়ে ছোট একটি নৌযান থেকে দুটি বিস্ফোরক যন্ত্র লাগানো হয়। এতে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নেভানো সম্ভব হয় এবং জাহাজটি গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। ক্রুরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে ওমানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির মুসান্দাম উপকূলের কাছে হামলার শিকার পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার থেকে ২৫ জন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাহাজটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল। ইরান, যুক্তরাজ্য ও ওমানের বর্ণিত ঘটনাগুলো একই জাহাজ বা হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট নয়।

মক্কার কাছে ড্রোন প্রতিহত

এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পাঠানো একটি ড্রোন মক্কা অঞ্চলের কাছে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান।

তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের সামরিক অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানে কাতারের মধ্যস্থতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। প্রতিনিধিদলে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তেহরান চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর জবাব দেয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য, চিঠিটি শান্তি আলোচনার চেয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

সিরিয়ায় আকস্মিক বন্যায় পাঁচজনের মৃত্যু

এদিকে পূর্ব সিরিয়ায় আকস্মিক বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে। রাক্কা ও দেইর আল-জোর প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় বন্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পানির তোড়ে আটকে পড়া মানুষ ও যানবাহন থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তর সিরিয়ায় বাস্তুচ্যুতদের শিবির থেকে শত শত পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রার উন্নতি নিয়ে আশাবাদ কম। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও প্রায় প্রতিদিন ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটছে বলে এপি জানিয়েছে। গাজার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের ক্ষমতায় যে পক্ষই আসুক, তাঁদের মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধান হবে না।

তথ্য সূত্র- এপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights