আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০
সাভার প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার পর জামগড়া, নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এলাকায় প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বলেন, সকাল থেকে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিলেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। সংঘর্ষের কারণে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের কয়েকটি জায়গায় মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ হয়েছে। হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক তিন ঘণ্টার মতো অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
এমন পরিস্থিতিতে সাভারের হেমায়েতপুর কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
শ্রমিকদের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিক। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
