নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় বিসিবির স্বতন্ত্র অভিযোগ কমিটি গঠন
নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় খুব শিগগিরই একটি ‘স্বাধীন অভিযোগ কমিটি’ গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত ২৮ অক্টোবর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কমিটির ১১ জন সদস্যই দ্রুত এই ব্যবস্থাটি কার্যকর করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
তবে গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিসিবির একজন প্রতিনিধি জানান, প্রস্তাবটি ওয়ার্কিং কমিটির পর্যায় থেকে অনুমোদন পেয়েছে, তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড সভায় অনুমোদিত হতে হবে।
ওই প্রতিনিধি ক্রিকবাজকে বলেন, হ্যাঁ, গত ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বিষয়টি (স্বাধীন অভিযোগ কমিটি গঠন) উত্থাপিত হয়েছিল এবং আমরা এটি গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম দলের ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন। এর প্রেক্ষিতে বিসিবি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
অভিযোগগুলোর তদন্তের পাশাপাশি ২০০৯ সালের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ের আলোকে ২০১৫ সালে বিসিবি একটি ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠন করেছিল। বিসিবির পরিচালক এবং নারী উইং কমিটির চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলা সেই কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই প্রাথমিক অভিযোগ কমিটির দায়িত্ব ছিল বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা এবং আরও স্বাধীন একটি অভিযোগ নিরসন কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করা।
তবে নতুন প্রস্তাবিত কমিটিটি আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে। আগের কমিটির মতো কোনো বোর্ড পরিচালক এর নেতৃত্বে থাকবেন না। বরং বিসিবির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে থেকে সদস্যদের নিয়ে এই ‘স্বাধীন অভিযোগ কমিটি’ গঠিত হবে। বিসিবি প্রতিনিধি বলেন, আমরা এই কমিটির জন্য বাইরের মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। এতে নিশ্চিত হবে, কোনো নারী ক্রিকেটার যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান, তবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বাইরের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ পক্ষপাতিত্বের যেকোনো ধারণা দূর করা করা। নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করার মধ্যে দিয়ে বোর্ডের ভেতরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
২৮ অক্টোবরের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমপ্লেনট কমিটি’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, তবে সেই পর্যায়ের ঐকমত্য মানেই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নয়। কমিটি গঠনের আগে এই প্রস্তাবটি বিসিবি-এর পূর্ণাঙ্গ বোর্ড সভায় উত্থাপন করে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। যদিও বোর্ড সভার কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বিসিবির ওই প্রতিনিধি বলেন, এটি এখনো অনুমোদিত হয়নি। প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা এখনো অনুমোদিত হয়নি। এটি বোর্ড সভায় পেশ করতে হবে। বোর্ড সভা শেষে প্রস্তাবটি অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত, ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমপ্লেনট কমিটি’ কেবল একটি প্রস্তাবের পর্যায়েই থাকবে এবং কোনো কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না।
