কুষ্টিয়ায় মহাসড়কে গরু ডাকাতি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় মহাসড়কে আবারো গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল চলন্ত পিকআপ ভ্যান থামিয়ে দুই জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ৭টি গরু লুটে নিয়েছে। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহসড়কের সদকী ইউনিয়নের ফুলতলা মৎস্য হ্যাচারীর সামনে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাত দলের হামলায় আহতরা হলেন-গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার পাচড়া এলাকার কুদ্দুস শেখের ছেলে জনি শেখ (৩৬) ও হোচেন শেখের ছেলে হৃদয় হোসেন ( ৩৩)। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যান চালক মো. সজিবকে (৩৪) সন্দেহ করছেন গরুর মালিক নাজমুল। সজিব দিনাজপুরের রুস্তমপুর এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে। তাকে কুমারখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, থানা চত্বরে রাখা রয়েছে জব্দকৃত পিকআপ ভ্যানটি। ভ্যানের ওপরে রয়েছে উদ্ধারকৃত লাল রঙের একটি গরু। এনিয়ে থানা চত্বরে কথা হয় গরু মালিক নাজমুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনলাইনে গরু দেখে আমরা তিনজন দিনাজপুরে গিয়েছিলাম গরু কিনতে। পছন্দ হওয়ায় ৮টি গরু কিনে ভাড়া পিকআপ ভ্যানে ফিরছিলাম। পথে কুমারখালীর মৎস্য হ্যাচারীর সামনে চার-পাঁচজন ডাকাত প্রথমে গাড়িতে আঘাত করলে চালক গাড়ি থামিয়ে দেন। এসময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জনি ও হৃদয়কে এলোপাতাড়ি কোপ শুরু করে। তা দেখে আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই এবং ‘৯৯৯’ কল দিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করলেও ডাকাতরা ৭টি গরু নিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, জনি ও হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে কুমারখালী এবং পরে কুষ্টিয়া হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। তারা এখন গাড়িতে ঢাকার পথে। তার ভাষ্য, গাড়ি চালক সজিব সারা পথ বিভিন্ন জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং কখন কোথায় আছি তা জানিয়েছে। আবার ডাকাতরা চালককে কোনো আঘাতও করিনি। এ ঘটনায় চালক জড়িত। থানায় মামলার এজাহার দিয়েছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ হেফাজতে থাকা চালক সজিব বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো গরু তুলেছেন গাড়িতে। ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান কুমারখালী থানার ওসি মো.সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, চালককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। থানায় ডাকাতি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
