জাবিতে তালা ভেঙে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের বের করল ছাত্রদল
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের অবরুদ্ধ করেন তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। পরে সেই তালা ভেঙে তাঁদের বের করে আনেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় সংগঠনটির আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ শীর্ষ যুগ্ম আহ্বায়করা নেতৃত্ব দেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভা চলাকালে নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
তালা দেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন, ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার বলেন, তাঁদের ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দর্শন বিভাগের একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চান, ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে এ দায়িত্ব দেওয়া হোক।
শাহরিয়ার বলেন, এ মুহূর্তে সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হককে পরিচালক করা হলে বিভাগের কল্যাণ হবে। কিন্তু প্রশাসন তাঁকে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক আখ্যা দিয়ে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। হামিম কামরুল হককে দায়িত্ব দেওয়া না হলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালিকে পরিচালক করার দাবি জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই অধ্যাপক ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তাঁরা দর্শন বিভাগের কাউকে পরিচালক হিসেবে চান না। এ দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, তালা ভাঙার নেতৃত্ব দেওয়া শাখা ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জুলাই আন্দোলনে তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। বর্তমানে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
ছাত্রদল নেতারা বলেন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত। তাঁদের অভিযোগ, তালা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তালা ভেঙে বের হওয়ার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, তাঁরা সিন্ডিকেট সভায় ছিলেন। এর আগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলার পরও তাঁরা তালা দিয়ে প্রশাসনিক কাজে বাধা দিয়েছেন।
উপাচার্য আরও বলেন, কার ইন্ধনে তালা দেওয়া হয়েছে এবং কারা ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন, তা তদন্তের বিষয়। আপাতত ছাড় দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
এ নিয়োগের পর অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে মুঠোফোনে কল করে পরিচালক হিসেবে যোগদান না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক মানছুর।
