দিনাজপুরে চড়ুই পাখির অভয়াশ্রম

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর শহরের ব্যস্ততম নিমনগর ফুলবাড়ী
বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিদ্যুতের তার, বাড়ির ছাদ ও গাছগুলো এখন যেন চড়ুই পাখির অভয়াশ্রম।
ইটপাথরের শহরে সকাল-বিকেল চড়ুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ ছাড়িয়ে যায়। প্রতিদিনই এই
সড়কের যাতায়াতকারী ও পথচারীদের মধ্যে নজর কাড়ছে চড়ুইপাখির দল।
স্থানীয়দের মতে গত দশ বছর ধরে ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিদ্যুতের তার, বাড়ির ছাদ ও গাছে
চড়ুই পাখিরা তাদের আবাসস্থল গড়ে তুলেছে।
দিনে পাখিগুলো দেখা না গেলেও বিকেল থেকে পাখিগুলো দল বেঁধে চলে আসে। আর সন্ধ্যা হলে
আশ্রয় নেয় বিদ্যুতের তার, বাড়ির ছাদ ও গাছের ডালে ডালে। আবার সকাল হলে দল বেঁধে চলে যায়
খাবারের সন্ধানে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নজর কারছে পথচারী ও পাখি প্রেমীদের। পরিবেশের
ভারসাম্য রক্ষায় পাখির প্রতি ভালবাসা সচেতনতা সৃষ্টির দাবি পাখিরে প্রেমীদের।
ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় পাখিপ্রেমী দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী পাপড়ি
রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগে গ্রামে কুঁড়েঘরে দেখা মিলত চড়ুই পাখির। এখন তেমন
কুঁড়েঘর নেই, তাই তেমন দেখাও মেলে না। ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার গাছে পাখিগুলোকে দেখে
খুব ভালো লাগল। তাই এখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখছি।
স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, সকাল বেলায় চড়ুই পাখি গুলো চলে যায় আবার সারাদিন
নিজেদের মতো থেকে সন্ধ্যার আগে আগে আবার চলে আসে। এই যে এদের কিচিরমিচির শব্দে
সকাল বেলায় আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন আমরা আমাদের নিজের মত কাজ করে যেতে পারি এবং
আমাদের ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করতে পারে।
পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থী তৌহিদ ইসলাম বলেন, এতো এতো চড়ুই একসঙ্গে কোলাহল
করছে দেখতে ও শুনতে বেশ ভালে লাগছে। আমরা প্রায়ই পাখিগুলোর কলকাকলি শুনতে ও পাখিগুলোর
দলবেঁধে উড়ার দৃশ্য দেখতে এখানে আসি। এগুলো বেশ ভালো লাগে।
নিমনগর ফুলবাড়ী ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, চড়ুই
পাখিগুলো দেখার জন্য অনেক দূর দূরান্ত থেকে ছেলে মেয়েরা আসে। অনেকে আবার অসুস্থ বাবা মার
মন ভালো করার জন্য এই পাখিগুলো দেখার জন্য নিয়ে আসে। চলার পথে অনেক পথচারী তাদের শিশুদের
যখন বাসায় নিয়ে যায় তখন তারা থেমে পাখিদের এই দৃশ্য দেখার সুযোগ তারা করে দেয় তাদের
শিশুদের।
