বুড়িচংয়ে গ্রিন হাউস পদ্ধতিতে আগাম সবজি ও ফলচাষ

উপজেলা প্রতিনিধি (বুড়িচং), কুমিল্লা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পার্ল্টি রাজাপুর গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদ মিনহাজ গ্রিন হাউস পদ্ধতিতে আগাম সবজি ও ফল চাষ শুরু করেছেন। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রিন হাউসটি নির্মাণ করে আধুনিক প্রযুক্তিতে সারা বছর সবজি-ফল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আগাম সবজি ফলাতে সরকারের (বিএডিসির) মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে এগিয়ে নিতেই তার এই উদ্যোগ।

রাশেদের বাবা আব্দুল মতিন বলেন, গ্রিন হাউসের ভেতর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক ফ্যান। এসব ফ্যান সচল রাখতে স্থাপন করা হয়েছে বড় আকারের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারা বছর ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই হাউসে আগাম ধনেপাতা, পালংশাক, বরবটি, পুঁইশাক, কুমড়ো শাক, কলমি শাক,আঙুর ও তরমুজসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল ফলানোর পদ্ধতি তৈরি করে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার জানান, সরকারের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রিন হাউজের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক। পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যবস্থা সফল হলে দেশে গ্রামগঞ্জে চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও কৃষি পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাশেদ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন করাই মূল লক্ষ্য।

বিএডিসি কর্মকর্তা ইসহাক মজুমদার বলেন, ‘‘সরকারের প্রকল্পের মধ্যে গ্রিন হাউসের প্রকল্প, কুমিল্লা জেলার মধ্যে দুটি বুড়িচং উপজেলার মধ্যে এসেছে এর মধ্যে একটি ‘মোকাম’ ইউনিয়নের কোরপাই অন্যটি ‘বাকশীমূল’ ইউনিয়নের পার্ল্টি রাজাপুর। আগাম সবজি ফলাতে গ্রিন হাউসের বিকল্প নেই।’’

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক খালেক মিয়া জানান, ‘এরকম একটা গ্রিন হাউস এলাকায় তৈরি হওয়া আমাদের জন্য একটি সুখবর, আমি চাই এলাকায় এই পদ্ধতিতে আগাম সবজি চাষে ভালো মুনাফা পেতে আরো প্রযুক্তিনির্ভর গ্রিন হাউস সৃষ্টি হোক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights