‘ভেবে নিই কী বলব’, নানা পাটেকারের মৃত্যুর খবরে তনুশ্রী

শোবিজ ডেস্ক
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ভারতের প্রখ্যাত ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে পুনরুজ্জীবিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বহু বিতর্ক ও কালজয়ী অভিনয়ে সমৃদ্ধ নানা পাটেকারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অবসানে সমগ্র বিনোদনজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। থিয়েটার ও চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষীয়ান এই অভিনেতাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। পুনের কাছে দোনাজেতে অবস্থিত তার নিজস্ব ফার্ম হাউসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন হবে তার শেষকৃত্য।

বর্ষীয়ান এই অভিনেতার প্রয়াণের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর ছিল অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের দিকে, যিনি কয়েক বছর আগে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির তীব্র অভিযোগ তুলে ভারতীয় বিনোদনজগতে ঝড় তুলেছিলেন। নানা পাটেকারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের এক স্টোরিতে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তনুশ্রী। তবে এই মুহূর্তে ঘটনাটি নিয়ে বিশদ কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে তিনি রাজি হননি। তনুশ্রী জানান, পূর্বনির্ধারিত একটি কাজের জন্য তিনি লখনউ যাচ্ছেন এবং আপাতত তার পুরো মনোযোগ সেই অনুষ্ঠানের দিকেই।

প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তনুশ্রী বলেন, আমি খবরটি শুনেছি। আজ আমার কাজের দিন। একটি বড় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমি লখনউ যাচ্ছি এবং আমি শুধু সেটির ওপরই নজর রাখতে চাই। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে পুরো সময়টি আমি যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই লাইভ সেশন ও কনটেন্ট পোস্ট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমি চিন্তিত যে সন্ধ্যার মধ্যে মিডিয়া কেবল এই বিষয়েই আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই আমি আগে নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত তা ভেবে নিই, তারপর মন্তব্য করব। তবে তার পরিবারের প্রতি অবশ্যই আমার সমবেদনা থাকছে।

উলেখ্য, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি বিশেষ গানের শুটিং চলাকালে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন তনুশ্রী দত্ত। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় ঘটনাটি সামনে আনেন, যা ভারতে ঐতিহাসিক #MeToo আন্দোলনের সূচনা করে। ২০০৮ সালেই সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনে (সিআইএনটিএএ) অভিযোগ জানানো হলেও ফৌজদারি মামলা হওয়ায় সংস্থাটি তখন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর তনুশ্রীর আইনজীবী নিতিন সতপুতে মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা থানায় নানা পাটেকার, কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিকী ও পরিচালক রাকেশ সারঙ্গের নারকো-অ্যানালাইসিস, ব্রেইন-ম্যাপিং এবং লাই-ডিটেক্টর পরীক্ষার আবেদন জানান।

তবে নানা পাটেকার শুরু থেকেই তনুশ্রীর সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এসেছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা থানা পুলিশ নানা পাটেকারকে এই মামলা থেকে খালাস দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া ‘বি-সামারি’ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, তনুশ্রীর দায়ের করা অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা প্রতিশোধমূলক হতে পারে। সেই দীর্ঘ আইনি ও বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে নানা পাটেকারের প্রয়াণ ঘটলেও, তনুশ্রীর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights