টানা বৃষ্টিতে বগুড়ায় নিত্যপণ্যের দাম চড়া, বিপাকে ক্রেতারা
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
জ্বালানি তেলের সংকট কাটতে না কাটতেই এবার টানা বৃষ্টিকে কেন্দ্র করে বগুড়ার বাজারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুধু সবজি নয়, ডিম, মাছ, মুরগি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও এখন চড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শুক্রবার বগুড়ার ফতেহ আলী বাজার, রাজাবাজার, কলোনী বাজার, খান্দার বাজার ও বকশি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
বর্তমানে করলা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বইকচু ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকায়। বেগুনের দাম বেড়ে প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে টমেটো ৫০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, তরি ৬০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, পেঁপে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লেবুর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়।
এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, যা আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১’শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিমের দামও বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
মাছের বাজারেও দেখা গেছে অস্থিরতা। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজিতে এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা। শিং মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, মলা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারে বাজার করতে আসা নুরুল ইসলাম বলেন, বাজারে সব কিছুর দাম বাড়তি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া এবং বৃষ্টির কারণে সবকিছুর দাম বেড়েছে। আমাদের বেতন তো আর প্রতি মাসে বাড়ে না। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, বাড়িভাড়া দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে রাজাবাজার আড়ৎদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাফয়েতুল ইসলাব বাবু জানান, টানা কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় কমে গেছে। বৃষ্টিতে কৃষকের অনেক আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে। যে কারণে সবজির বাজারে দাম চড়া। তবে কয়েক দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হতে পারে বলেও তিনি জানান।
