ভয়ের মাঝেও কেন আনন্দ পান কেউ কেউ? চমকপ্রদ কারণ জানাল গবেষণা
সাধারণত ভয় মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলে এবং বিপদ এড়িয়ে চলতে বাধ্য করে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মধ্যে ‘সাইকোপ্যাথিক’ বা বিকৃত মানসিকতার বৈশিষ্ট্য বেশি, তারা ভয়ংকর পরিস্থিতিকেও বেশ উপভোগ করেন। কানাডার ব্রক ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, নিজেকে অপরাজেয় বা অজেয় ভাবার প্রবণতাই মূলত এ ধরনের মানুষদের ভয়ের অনুভূতিকে রোমাঞ্চে পরিণত করে।
‘সাইকোলজিক্যাল রিপোর্টস’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় সাইকোপ্যাথিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানুষের অনুভূতি ও ঝুঁকির প্রবণতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সহমর্মিতার অভাব, আবেগপ্রবণতা, ঝুঁকি নেওয়া এবং অন্যদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা—এসবই সাইকোপ্যাথিক আচরণের অংশ।
ব্রক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাঞ্জেলা বুকের নেতৃত্বে মোট ১ হাজার ৬৫০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর দুটি আলাদা পরীক্ষা চালানো হয়। প্রথম পরীক্ষায় ৮২৫ জনের সাইকোপ্যাথিক বৈশিষ্ট্য ও বিপদমুক্ত থাকার আত্মবিশ্বাস মূল্যায়ন করা হয়। এরপর তাদের রোলার কোস্টারে ওঠার একটি রোমাঞ্চকর ভিডিও এবং ‘আউটলাস্ট’ নামের একটি হরর ভিডিও গেমের ভীতিকর দৃশ্য দেখানো হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যাদের মধ্যে সাইকোপ্যাথিক বৈশিষ্ট্য প্রবল, তারা ভীতিকর দৃশ্যে ভয় বা আতঙ্কের বদলে বরং বেশি উত্তেজনা ও আনন্দ অনুভব করেছেন। গবেষকরা জানান, যারা নিজেকে অপরাজেয় মনে করেন, তাদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি কাজ করে কম।
দ্বিতীয় পরীক্ষায় দেখা হয়, একঘেয়েমি বা বিরক্তি থেকে এ ধরনের অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় কি না। গবেষণায় দেখা যায়, সাইকোপ্যাথিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিরা সহজে বিরক্ত হলেও ভয়ের অনুভূতি উপভোগ করার পেছনে একঘেয়েমির কোনো ভূমিকা নেই। বরং নিজেকে ক্ষতিমুক্ত ভাবার প্রবণতাই এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তবে গবেষণাটি শুধু ভিডিও ক্লিপ এবং অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত মতামতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। তাই বাস্তব জীবনের বিপদের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব কতটা কার্যকর, তা জানতে ভবিষ্যতে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর ব্যবহার করে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। সব মিলিয়ে গবেষণাটি বলছে, এমন মানুষেরা যে একেবারেই ভয় পান না তা নয়, বরং তারা ভয়কে ভিন্নভাবে গ্রহণ ও উপভোগ করেন।
