সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ‌প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ চীনের, বদলাতে পারে সমীকরণ

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে নতুন সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

তিন দেশের মধ্যে গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না।

চুক্তির আওতায় তিন দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তার সমন্বয় করবে। সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাকান ফিদান। বিশেষ করে মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি ন্যাটোর আদলে বিস্তৃত একটি ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

চীনের আগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই প্রেক্ষাপটে চীনের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বেইজিংয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহার সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চীন ও ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।

একই সঙ্গে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা—এই চার ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

চীন শক্তির রাজনীতি ও ‘জঙ্গলের আইন’-এর বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছে।

নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের সম্ভাবনা
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে চীনের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহকে সরাসরি একই উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে দুটি প্রবণতা একই সময়ে এগিয়ে যাওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে পারে।

বিশেষ করে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তুরস্কের বাড়তে থাকা আঞ্চলিক প্রভাব ভবিষ্যতে নতুন ধরনের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এর ফলে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পাশাপাশি কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সংযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ কারণে মক্কা চুক্তিকে শুধু পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তনের সূচনা হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights